জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২১ বাতিলে ৫ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করবে ছাত্র ফ্রন্ট [National Curriculum]

জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২১ বাতিল চায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী)। এ লক্ষ্যে আগামী চার মাসব্যাপী পাঁচ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করবে তারা। এই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, নতুন এ শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন অসম্ভব। এ শিক্ষাক্রম শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সংকটের মধ্যে নিয়ে যাবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২১ বাতিলের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: সংগৃহীত


আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্টের এ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। স্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি চলাকালে ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজনও থাকবে।


আরও পড়ুনঃ ভর্তি বিকেএসপিতে ২১ খেলায় শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে, সাকিব-মুশফিক-মামুনুল হওয়ার সুযোগ [BKSP Admission]


গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী। সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, অধিকারকর্মী রাখাল রাহা এবং বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।


আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করি। তাই এই স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বের মধ্যে শিক্ষায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ হয় বাংলাদেশে। গণবিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে এমন অবস্থা। আমাদের এই (নতুন) শিক্ষাক্রম অন্য দেশের শিক্ষাক্রম থেকে অনুবাদ করে চালানো হচ্ছে। বর্তমান সরকার সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করেছিল। এর কোনো মূল্যায়নই তারা করেনি; বরং এই পদ্ধতি গাইডনির্ভরতা বাড়িয়েছে। খেলার মাঠ, গবেষণাগার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতসহ আনুষঙ্গিক আয়োজন না করে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’


আরও পড়ুনঃ বিশ্বব্যাংকের বৃত্তি, পড়াশোনা অক্সফোর্ড-হার্ভার্ড-স্ট্যানফোর্ডসহ ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে [World Bank Scholarship]


আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সরকার নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করবে। মাঝখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে। অনেক শিক্ষকই এই শিক্ষাক্রম চান না। কিন্তু তাঁরা ভয়ে বলতে পারছেন না। যাঁরা চান না, তাঁরা কী করে শিক্ষা দেবে? এগুলো নিয়ে সমালোচনা যৌক্তিক। কিন্তু সরকার কোনো সমালোচনা শুনতে চায় না। সরকার সমালোচনা পছন্দ করে না, তারা তোষামোদী পছন্দ করে।’


মোহাম্মদ আজম বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সংকটের মধ্যে নিয়ে যাবে। এর বাস্তবায়ন অসম্ভব। এ শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানশিক্ষা থেকে পিছিয়ে দেবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য অপ্রস্তুত করে তুলবে।


আরও পড়ুনঃ অভিভাবকদের শিক্ষামন্ত্রী সন্তানের নম্বরের দিকে না তাকিয়ে কী শিখল, সেটা দেখুন [Education Minister Dipu Moni]


ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, আগামী চার মাসব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি চলমান থাকবে। এ কর্মসূচি চলাকালে তাঁরা বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করবেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষানুরাগী মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তাঁরা পৌঁছাবেন। এ আন্দোলন সফল করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তাঁরা।


নিয়মিত চাকুরি এবং শিক্ষা সংক্রান্ত নিউজ পেতে ফেসবুক পেজ , ফেসবুক গ্রুপ এবং টুইটার হেন্ডেল এখনই ফলো করুন।

Post a Comment

0 Comments